শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০২:১৭ অপরাহ্ন
Logo
নোটিস :
আমাদের সাইট-এ প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে,যোগাযোগ করুন>> 01712-129297>>>01712-613199>>>01926-659742>>>

মানবিক পুলিশের অভুতপূর্ব দৃষ্টান্ত এস পি ফরিদ উদ্দিন

আহসান হাবীব লায়েক: / ২৭০ বার
আপডেটে : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২০

সতর্ক সচেতনতার দায়িত্ব পালনে তিনি ও তার বাহিনি উজাড় করে দিচ্ছেন জীবনের সেরাটি…..

আহসান হাবীব লায়েক:: বৈশ্বিক করোনায় মহামারির ছোবলের বাইরে নয় সিলেটও। প্রবাসী অধ্যূষিত সিলেট এখন করোনার এক বিপদঘর। অজানা অচেনা এ ভাইরাসের তান্ডবে চুপছে গেছে মানুষের চিরচেনা যাপিত জীবন। একদিকে করোনার নেতিবাচক আতংকিত সুর মানুষের মুখে মুখে। এর মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার প্রধান এক খোরাকে পরিণত হয়েছেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। আস্থা ভরসার এক বাতিঘর । আমজনতার মধ্যে এক সমীহের নাম যেন তিনি। কথায় কাজে অমিল খোঁজে পায়নি কেউ। কাজের বলিষ্টতায় মানুষের মধ্যে আজীবন স্মরনীয় থাকবেন তিনি, তৃপ্তির গর্বিত আ্ওয়াজ তাকে নিয়ে অনেকের। সেবার এক অনন্য অইকন হয়ে দাড়িয়েছেন তিনি। বিশেষ করে করোনা প্রাদূভার্ব ছড়িয়ে পড়ার পর সামনে থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে তার ভূমিকা অন্য যেকারো থেকে আলাদা। মাঠে ময়দানে সর্তক-সচেতনায় উজাড় করছেন দিচ্ছেন তিনি ও তার বাহিনী।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, পৃথিবী এখন অস্থির সময় পার করছে। এর ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। অনেকে একে ‘সভ্যতার সংকট’ বলেও অভিহিত করছেন। এক চাপা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি সবাই। একদিকে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটছে, অপরদিকে বাড়ছে তীব্র ধনবৈষম্য। এই জন্য আমাদের তৈরী হতে হবে,মানবিক মূল্যবোধের আলোকে সহমর্মিতা বোধকে জাগ্রত করার মধ্য দিয়ে এই ন্যাচারাল পানিম্যান্টের মোকাবিলা করতে হবে।সৎ সাহসী এবং ধৈর্যশীল নীতিবোধকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

নিজেদের সভ্য বলে দাবি করা মানুষ এই একুশ শতকে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগতভাবে আমাদের মানবিক হতে হবে– সেটি অনুধাবন করা এবং শিক্ষা ও সমাজের দায়দায়িত্বের প্রসঙ্গটি সামনে আনা খুবই জরুরি।মানবিক ও দায়িত্বশীল মূল্যবোধ অনেকগুলো কাজের একটি হচ্ছে ব্যক্তির মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানো।সময়ের কাছ হতে শিক্ষা নেওয়া এ শিক্ষা আনুষ্ঠানিক যেমন হতে পারে, তেমনি হতে পারে অনানুষ্ঠানিকও।

মূল্যবোধ বিকাশে বিবেকের দায় ব্যক্তি পর্যায় পর্যন্ত বিবেচনা করতে হয়। কারণ, জাগ্রত বিবেকের প্রভাব সবচেয়ে বড় ও গভীর। মনে রাখা দরকার, কেউ হুট করে মানসিকতা পরিবর্তন করে একদিনে ঘাতক হয়ে যায় না। এ জন্য দরকার দীর্ঘদিনের চর্চা। শিক্ষার গুরুত্ব এ জায়গাটিতেই। আপাতদৃষ্টিতে যেসব বিষয়কে ধীর ও গতিহীন মনে হয়, কিংবা যেগুলোতে অগুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, সেগুলোই আসলে ভিত তৈরি করে দিতে পারে বা দেয়। যে শিশু ছোটবেলা থেকে পড়ালেখার তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে বেড়ে ওঠে, প্রতিযোগিতা যেখানে মুখ্য; মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলীর বিকাশ সেখানে আস্তে আস্তে গৌণ হয়ে উঠতে শুরু করে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু বাজার-নির্ভর ডিগ্রি প্রদান করে; বাংলা, দর্শন, সামাজিক বিজ্ঞান, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় যেখানে উপেক্ষিত, সেখানে মূল্যবোধের বিকাশ বৃদ্ধি কঠিনই বটে।

মানুষের সুকুমার বৃত্তির বিকাশ যেসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করে সেগুলোর কতটা শিশুকাল থেকে চর্চা করা হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা তৈরি করা হলে সেখান থেকে ‘মানব সম্পদ উৎপাদন’ হবে, মানব-মস্তিষ্ক খালি থাকে না, জমি ফাঁকা থাকলে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির আগমন বা (আইডিয়া)চাষাবাদ শুরু করবেই। এটাই নিয়ম। আর সেই উদাহরণ কি আমরা দেখতে পাচ্ছি না?

প্রসঙ্গত: পুলিশ নিয়ে অনেকের বিরূপ ধারণা থাকলেও সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি), কুমিল্লার সন্তান মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম সে ধারণা সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। দুষ্টের দমন, শিষ্টের লালন নীতিতে কাজ করে তিনি সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন।২০১৯ সালের ১৩ জুন সিলেটের এসপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

যোগদানের পর থেকেই সিলেট জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তরুণ এই অফিসার। বিশেষ করে থানা গুলোতে নাগরিকদের আইনী সেবা দিতে তিনি অফিসার ইনচার্জদের প্রতি কড়া নির্দেশ দেন।

করোনাভাইরাসের শুরু থেকে কর্মহীন গৃহবন্দী অসহায় মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার নিয়ে অভিরাম ছুটে চলা থেকে শুরু করে, ভাইরাস ছড়ানো ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য জনসচেতনতার কঠোর নজরদারি রাখছেন তিনি, প্রত্যেক উপজেলায় অসহায় হতদরিদ্র দিনমজুর মানুষদের ঘরে ঘরে খাবার নিয়ে পৌছে দিচ্ছেন।

ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠা এই পুলিশ কর্মকর্তাকে গর্বিত পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তারা। সাধারণ মানুষের বন্ধু হয়ে তাদের পাশে থেকে কাজ করে সফল এই পুলিশ কর্মকর্তা দাগি অপরাধীদের কাছে আতঙ্ক তেমনি সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন এসপির কিছু উপদেশ, যা সকলের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের উত্তম নির্দেশনা। কাজের সফলতা লাভের আরেকটি উপায় হলো চিন্তাশীল হওয়া। ভাবনাহীন কাজ প্রকৃত কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। কর্মের সুফল পেতে হলে কর্মকারীকে অবশ্য কাজ নিয়ে ভাবতে হবে এবং ভালো-মন্দ উভয় দিক বিবেচনা করতে হবে। কারণ, পরিকল্পনাহীন কাজ মানব জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে। এমনকি এতে নিজের সম্পদ, পরিশ্রম ও সময়ের সিংহভাগ অপচয়ই হয়। তাই প্রতিটি কাজের সফলতার পূর্বশর্ত হচ্ছে পূর্বপরিকল্পনা। আগে চিন্তাভাবনা করতে হবে, অতঃপর কাজ সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে এটাই নবীজি (সা.)-এর সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করিম (সা.) কে বলল, আমাকে উপদেশ দিন। তখন তিনি বললেন, চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করো। যদি তার পরিণাম উত্তম বলে বিবেচিত হয়, তবে তা সম্পাদন করো। আর যদি মন্দের আশঙ্কা থাকে তখন তা থেকে বিরত থাক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com