রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
Logo
শিরোনাম :
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের আবেদনে ভুল সংশোধন আজ থেকে ভাইরাস এসেছে বাংলাদেশ বা ভারত থেকে, দাবি চীনা বিজ্ঞানীদের ! ধর্ষণের শাস্তি : মাটিতে লুটিয়ে পড়লে চিকিৎসা দিয়ে আবারও বেত্রাঘাত দেশব্যাপী সাংবাদিক নির্যাতন, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে উত্তরায় মানববন্ধন। সারা বাংলাদেশে যুবলীগকে শক্তিশালী সংগঠন করা হবে, ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের অভিযানে তিন মাদক ব্যবসায়ী আটক রামধনু মন – হাসনাহেনা রানু গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪ জন্মদিনে বাড্ডা থানার সর্বস্তরের মানুষের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত কায়সার মাহমুদ ছাতকে নিজগাঁও নয়াবস্তি গ্রামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু
নোটিস :
আমাদের সাইট-এ প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে,যোগাযোগ করুন>> 01712-129297>>>01712-613199>>>01926-659742>>>

স্ত্রীর পাশে চিরনিদ্রায় সমাহিত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক

স্টাফ রিপোর্টার: / ৪২ বার
আপডেটে : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার:: প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হককে বনানী কবরস্থানে স্ত্রীর পাশে সমাহিত করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে স্বজনদের উপস্থিতিতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। এর আগে দুপুর ২টার দিকে প্রিয় কর্মস্থল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে শোক আর শ্রদ্ধায় শেষ বিদায় জানিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরা। আজ শনিবার দুপুর ২টার পর এখানে তাঁর তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার পর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ। এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও ব্যারিস্টার রফিকের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।সুপ্রিম কোর্ট মসজিদের ইমাম আবু জাফরের ইমামতিতে জানাজায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আইনজীবীরা অংশ নেন। তারপরই ব্যারিস্টার রফিকের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে বনানী কবরস্থানের উদ্দেশে নেওয়া হয়। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেলের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শোক প্রকাশ করেছেন। ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের প্রথম জানাজা সকাল সাড়ে ১০টায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর শেষবারের মতো নিজের প্রিয় আবাস রাজধানীর পুরানা পল্টনের ৪৭/১ নম্বরের ‘সুবর্ণ’তে নেওয়া হয় তাঁকে। বেলা সাড়ে ১১টায় লাশ বাসায় নেওয়া হলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর নিকটজনেরা। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বায়তুল মোকাররমে। বাদ জোহর সেখানে ব্যারিস্টার রফিকের দ্বিতীয় জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররমের খতিব হাফেজ মুহিবুল্লাহ। সেখানে আত্মীয়স্বজন ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েক দিন ধরে ব্যারিস্টার রফিক-উল হক এই হাসপাতালে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তাঁর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ সকালে না ফেরার দেশে চলে যান এই প্রাজ্ঞ আইনজ্ঞ। রফিক-উল হকের মৃত্যুতে আইন অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর মৃততে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। এ ছাড়া সিনিয়র আইনজীবীরাও গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তাঁরা বলেন, আইন ও বিচারাঙ্গনে তাঁর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের জন্ম ১৯৩৫ সালের ২ নভেম্বর দক্ষিণ কলকাতার চেতলা গ্রামে। গ্রামের হাই স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে চলে যান কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে। থাকতেন বেকার হোস্টেলে। ১৯৫৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, ১৯৫৭ সালে দর্শন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৫৮ সালে এলএলবি পাস করেন। ১৯৬২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে বার অ্যাট ল সম্পন্ন করেন। ১৯৬৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে এবং ১৯৭৩ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে আইন পেশা শুরু করেন। বর্ণাঢ্য জীবনে আইন পেশায় দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছর পার করেছেন। বিগত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই করেন তিনি। দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বরাবরই সোচ্চার ছিলেন রফিক-উল হক। দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বিষয় নিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করেছেন বর্ষীয়ান এই আইনজীবী। ১৯৯০ সালের ৭ এপ্রিল থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রফিক-উল হক। কিন্তু কোনো সম্মানী নেননি। পেশাগত জীবনে তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল করেননি। তবে নানা সময়ে রাজনীতিবিদরা সব সময় তাঁকে পাশে পেয়েছেন। রাজনীতিবিদদের সম্মান সব সময়ই অর্জন করেছেন তিনি। ব্যারিস্টার রফিক-উল হক তাঁর জীবনের উপার্জিত অর্থের প্রায় সবই ব্যয় করেছেন মানুষের কল্যাণ ও সমাজসেবায়। আর তাঁর এই উদ্যোগকে বিরল বলে আখ্যায়িত করেছেন আইন অঙ্গনে তাঁর সমসাময়িকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com