মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন
Logo
নোটিস :
আমাদের সাইট-এ প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে,যোগাযোগ করুন>> 01712-129297>>>01712-613199>>>01926-659742>>>

এমসি কলেজের আগে রাজপাড়ায়ও ‘ধর্ষণের’ শিকার সেই গৃহবধূ?

স্টাফ রিপোর্টার: / ১১০ বার
আপডেটে : সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

স্টাফ রিপোর্ট: এমসি কলেজ ক্যাম্পাসের আগে একইদিন আরেক দফায় গণধর্ষণের শিকার হয় সেই গৃহবধূ।ছেলে বন্ধুর সঙ্গে একটি ফ্ল্যাটে দেখা করতে যাওয়ার পর সেখানেই তাকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়।সেখানে তিনজন মিলে তাকে ধর্ষণ করে।এর তিন ঘন্টার মধ্যে দ্বিতীয় দফা এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে স্বামীর গাড়িতেই দলবেঁধে ধর্ষণের শিকার হন ওই গৃহবধূ।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, ওইদিন সন্ধ্যায় এমসি কলেজ সংলগ্ন রাজপাড়া এলাকায় বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ছিলেন নির্যাতিতা গৃহবধূ।ওই ফ্ল্যাটটি ধর্ষণে অভিযুক্ত অর্জুন লস্করের নামে ভাড়া নেওয়া বলে জানা গেছে।এ সময় এ ফ্ল্যাটে অভিযুক্ত তারেক, রাজন ও আইনুদ্দিনও ছিল।এদের মধ্যে আইনুদ্দিন ধর্ষিতা গৃহবধূর ছেলে বন্ধু। তারা একে অপরকে আগ থেকেই চিনতেন।বাদি ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে এ তথ্য মিলেছে।

বিজ্ঞাপন:: ড্রিম আর্ট ডিজিটাল

এছাড়া আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূল জবানবন্দিতেও আসামি আইনুদ্দিন জানিয়েছেন ঘটনার দিন ২৫ সেপ্টেম্বর টিলাগড় এলাকার একটি বাসায় ওই গৃহবধূকে নিয়ে বেশ কিছু সময় কাটিয়েছেন।এসময় তার বন্ধু রাজনও ছিল।সেই বাসা থেকে বের হওয়ার পর এ খবর পেয়ে প্রধান আসামি সাইফুরসহ অন্য আসামিরা জোর করে স্বামীসহ গৃহবধূকে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে গাড়িতেই চারজন মিলে গৃহবধূকে ধর্ষণ করে।

যদিও এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারে এ বিষয়টি উল্লেখ করেননি নির্যাতিতার স্বামী।

উল্লেখ্য, ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কতিপয় কর্মী স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতার স্বামী নগরীর দক্ষিণসুরমার বরইকান্দি ইউনিয়নের জৈনপুরের বাসিন্দা (২৪)। এই ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ৬ জনসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। এদের প্রত্যেককে আদালতের নির্দেশে পাঁচদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে গ্রেফতার হওয়া ৮ আসামি-ই পৃথক আদালতে ধর্ষণে জড়িত থাকার দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।সর্বশেষ রোববার পাঁচদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে দোষ স্বীকার করে আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক ও মাহফুজুর রহমান মাসুম।

ওইদিন মামলার ২ নম্বর আসামি তারেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে এবং ৬ নম্বর আসামি মাসুম মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেন।জবানবন্দি রেকর্ডের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দুই আসামি তারেক ও মাসুমকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে গ্রেফতার হওয়া অপর ছয় আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে ধর্ষণকাণ্ডে তাদের কার কী ভূমিকা ছিল তা বর্ণনা দেয়।ধর্ষণের দায় স্বীকার করা আসামিদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগের টিলাগড় বলয়ের এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারী।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সর্বপ্রথম নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও অপর দুই আসামি অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম। এরপর শনিবার (৩ অক্টোবর) আইনুদ্দিন, রাজন মিয়া ও মাহবুবুর রহমান রনি আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। এদের মধ্যে মাহবুবুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব রাজন ও আইনুদ্দিনকে গ্রেফতার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, এই মামলায় সকল আসামি আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূল জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্তে যা ইতিবাচক দিক। এখন আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি মামলা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা হবে। এছাড়া আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টসহ কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ব্যাপার আছে। এসব পাওয়ার পর চূড়ান্ত পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com