রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৩:১৪ অপরাহ্ন
Logo
নোটিস :
আমাদের সাইট-এ প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হবে,যোগাযোগ করুন>> 01712-129297>>>01712-613199>>>01926-659742>>>

করোনার কারণে মৌলভীবাজারের আনারস চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত

মৌলভীবাজার প্রতিনি: / ৪৯ বার
আপডেটে : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০

মৌলভীবাজারে এবার মৌসুমি ফল আনারসের ফলন ভাল হয়েছে। জেলার হাট-বাজারগুলো এখন আনারসের মিষ্টি গন্ধে মাতোয়ারা। কিন্তু শঙ্কার প্রকাশ করে বাগান মালিক ও চাষিরা বলছেন, সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে তাদের ফসল। দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও প্রক্রিয়াজাত শিল্প ও হিমাগার না থাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও লাখ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের ।

জেলা সদরের মোকামবাজার, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতাগাঁও, মুছাই, মির্জাপুর, ভূনবী, ভৈরববাজার, ডলুবাড়ি, রাধানগর, মোহাজেরাবাদ এলাকার চাষিদের সবাই প্রায় একই কথা জানালেন।

কথা বলে জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর বিমানঘাঁটি, মাধবপুর, মাঝেরছড়া, পুরানবাড়ি ও আদমপুর এলাকার পাহাড়ী ও সমতল ভূমিতে বেশি আনারস চাষ হয়। ওইসব এলাকা থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাতপর্যন্ত পিকআপ, জিপ ও ঠেলাগাড়ি বোঝাই করে শ্রীমঙ্গল শহরের নতুনবাজার এলাকায় বিভিন্ন আড়তে আনারস, লেবু,কাঠাঁল প্রভৃতি দেশি ফল নিয়ে আসছেন চাষিরা।

সেখান থেকে খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে করছেন চড়া দামে বিক্রি করলেও বাগান মালিকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দেখা গেছে, আড়তে প্রতিটি বড় আনারস ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, মাঝারিগুলো প্রতিটি আনারস ২৫-৩০ টাকা ও ছোটগুলো প্রতিটি আনারস বিক্রি হচ্ছে ১২-১৫ টাকা দরে।

শ্রীমঙ্গল নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আনারসসহ মৌসুমি ফলের প্রাচুর্য থাকলেও বাজারগুলো ক্রেতাশূন্য। করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ ঘরবন্দি। খুচরা কিংবা পাইকারি কোনো ধরনের ক্রেতাই নেই।

আনারস ব্যবসায়ী আয়াত আলী বলেন, উৎপাদন ভাল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে বেচাবিক্রি কম। এই পরিস্থিতি না থাকলে আমরা ভাল ব্যবসা করতে পারতাম।

শ্রীমঙ্গলের আনারস চাষী ও বাগান মালিক আব্দুল বাছিত আব্দুল মালেক জানান, জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় আনারসের ব্যাপক চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদিত আনারস বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা সদর ও সিলেট,সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ বিক্রি হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত নয়। গত বছর এসব আনারস রাজধানী ঢাকা কাওরানবাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হতো।

জালালিয়া সড়কের বাসিন্দা আনারস চাষী মো.শাহেদ আহমদ জানান, এ বছর আনারসের ফলন হলেও ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় আনারসের চাহিদা থাকলেও করোনাভাইরাসের কারণে অনেকটাই কমে গেছে। কারণ ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না।

তিনি আরও বলেন, বাগানে আনারস পেকে-পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কম দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। এ বছর বাগানের খরচ পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

শ্রীমঙ্গল আড়ত মেসার্স নেপাল আদিত্য এন্ড সন্সের কর্ণধার নির্মল আদিত্য বলেন, ঢাকা ও নরসিংদীর, বগুড়ার আনারস ব্যবসায়ীরা আসতেন। লকডাউনের কারণে কেউ আসতে পারে নাই। করোনাভাইরাসের প্রভাবে এবার কাস্টমার না থাকার আনারস,কাঠাঁলের ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী বলেন, জেলায় ১২০১ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। তারমধ্যে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৬২৫ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। আনারস ফলন সবসময় ভালো হয়। তবে চাষীরা দাম পাচ্ছেন না করোনাভাইরাসের কারণে।

তিনি আরও বলেন, কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় মৌসুমি ফল চাষিদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলে কোল্ডস্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে উঠলে ব্যবসায়ী ও চাষিদের সুবিধা হতো। বিষয়টি আমরা ঊদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানাব।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম প্রভাত আলোকে বলেন, শ্রীমঙ্গলে উৎপাদিত এসব ফল সিলেট বিভাগসহ সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। পচনশীল দ্রব্য দ্রুত হন্তান্তর করতে হয়। এখন একটা কোল্ডস্টোরেজ জন্য খুবই প্রয়োজন। কোল্ডস্টোরেজ স্থাপন করতে ঊদ্ধর্তন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
Theme Created By ThemesDealer.Com